ঢাকার জ্যামে বাসে ঝুলে এক হাতে ফোন চালানো যে কতটা যন্ত্রণার, তা ভুক্তভোগী মাত্রই বোঝেন। বড় স্ক্রিনের এই দাপটের বাজারে ঠিক এই কারণেই ছোট ও শক্তিশালী ফোনের কদর আলাদা। ঠিক এই শূন্যতা পূরণের দাবি নিয়ে দেশের বাজারে অনঅফিসিয়ালি হাজির হয়েছে OnePlus 13s। প্রবাসীদের মাধ্যমে কিংবা গ্রে মার্কেটে আসার পর থেকেই ফোনটি নিয়ে বেশ শোরগোল চলছে। অনেকেই জানতে চাইছেন oneplus দাম বাংলাদেশ-এ কেমন হতে পারে। এই রিভিউতে আমরা খতিয়ে দেখব OnePlus 13s আসলেই কাজের কিছু দিতে পারল, নাকি কেবলই বিজ্ঞাপনী ফাঁকা আওয়াজ রয়ে গেল।
আজকাল পকেটে সহজে ঢুকে যায় এমন ফোন খোঁজা বেশ ঝক্কির কাজ। OnePlus 13s ঠিক এই জায়গাতেই আমাদের পুরনো নস্টালজিয়া আর আধুনিক পারফরম্যান্সের মেলবন্ধন ঘটাতে চাইছে। তবে ছোট বডিতে ফ্ল্যাগশিপ পারফরম্যান্স ধরে রাখার এই কঠিন লড়াইয়ে তারা কতটা সফল হলো? সত্যি বলতে, এখানে পাওয়ার আর সাইজের একটা বড় মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ আছে। আমাদের দীর্ঘদিনের পর্যালোচনার অভিজ্ঞতা থেকে চলুন এর আদ্যোপান্ত দেখে নেওয়া যাক।

প্রথম দেখায়: OnePlus 13s এর ডিজাইন ও হাতে ধরার অনুভূতি
বাক্স থেকে ফোনটি বের করতেই প্রথম ধাক্কাটা লাগে ওজনে। আজকের দিনে যেখানে প্রায় প্রতিটি ডিভাইসের ওজন ২০০ গ্রামের কাছাকাছি চলে গেছে, সেখানে OnePlus 13s হাতে ধরলে বেশ হালকা মনে হয়। এর বাঁকানো কিনারা ও মসৃণ ব্যাক প্যানেলের কারণে ফোনটি সহজে হাত থেকে পিছলে যায় না। ঢাকার ভিড় বাসে দাঁড়িয়ে ব্যবহারের জন্য এটি বেশ বড় একটা স্বস্তি। প্লাস্টিকের সস্তা ভাব নেই, বরং মেটাল ফ্রেম আর কাচের চমৎকার মেলবন্ধন প্রথম দেখাতেই ফোনটির প্রিমিয়াম ভাব ফুটিয়ে তোলে।
যারা এক হাতে দ্রুত টাইপ করতে পছন্দ করেন, তাদের এই স্ক্রিন সাইজ বেশ আরাম দেবে। বুড়ো আঙুল দিয়ে ডিসপ্লের যেকোনো কোণায় অনায়াসেই পৌঁছানো যায়। তবে পেছনের ক্যামেরা বাম্পটি বেশ খানিকটা উঁচু। টেবিলের ওপর ফ্ল্যাট করে রাখলে ফোনটি একটু দুলতে থাকে, যা অনেককে বিরক্ত করতে পারে। এই ছোটখাটো খামতিটুকু বাদ দিলে, বিল্ড কোয়ালিটির দিক থেকে OnePlus 13s-এ কোনো আপস করা হয়নি।
ডিজাইনের দিক থেকে এটিকে Samsung Galaxy S25 এর বেস মডেলের মতোই পরিপক্ব মনে হয়েছে। শাওমির Xiaomi 14 যেমন হাত থেকে পিছলে যাওয়ার ভয় থাকে, OnePlus 13s-এ সেই সমস্যা নেই। তবে ওয়ানপ্লাসের সিগনেচার অ্যালার্ট স্লাইডারটি এই মডেলে নেই। পুরোনো ভক্তদের মনে এই অনুপস্থিতি কিছুটা খচখচানি তৈরি করবে, যদিও ব্র্যান্ডটি অন্য উপায়ে সেই খামতি মেটানোর চেষ্টা করেছে।
পারফরম্যান্সের পাওয়ারহাউস: স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট চিপসেট কী বলছে?
ছোট সাইজের ফোন মানেই যে শক্তিতে কমতি থাকবে, এই ধারণা বদলে দিতে চায় OnePlus 13s। এর ভেতরে দেওয়া হয়েছে শক্তিশালী কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট চিপসেট। প্রতিদিনের সাধারণ অ্যাপ ব্যবহার, সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং বা চ্যাটিংয়ের সময় ফোনটি অত্যন্ত দ্রুত সাড়া দেয়। ঢাকার জ্যামে বসে দীর্ঘক্ষণ ফেসবুকিং করলেও কোনো ল্যাগ বা ফ্রেম ড্রপ চোখে পড়ে না।
তবে বাস্তব অভিজ্ঞতা সবসময় একরকম থাকে না। হেভি গেমিং যেমন জেনশিন ইমপ্যাক্ট বা পাবজি মোবাইল থ্রিডি গ্রাফিক্সে চালাতে গেলেই ছোট বডির সীমাবদ্ধতা টের পাওয়া যায়। ছোট আকৃতির কারণে এর ভেতরের কুলিং সিস্টেম বা ভেপার চেম্বারটি পর্যাপ্ত বড় নয়। ফলে ২০ মিনিটের মতো একটানা ভারী গেম খেললে বা রোদে দাঁড়িয়ে ৪কে ভিডিও রেকর্ড করলে ফোনটি দ্রুত গরম হয়ে যায়। তাপমাত্রা বাড়লে প্রসেসর নিজের গতি কমিয়ে দেয় (থার্মাল থ্রটলিং), যার কারণে গেমে ফ্রেম ড্রপ হতে বাধ্য। কট্টর গেমারদের জন্য এটি বড় ধাক্কা হতে পারে।
সাধারণ ব্যবহারকারী যারা খুব বেশি ভারী গেম খেলেন না, তাদের কাছে প্রসেসরটি দারুণ লাগবে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ ভিডিও এডিটিং বা ভারী কাজের জন্য এই ফোন মানানসই নয়। কম্প্যাক্ট ডিজাইনের পেছনে যে এই পারফরম্যান্সের কিছু আপস জড়িয়ে থাকে, তা কেনার আগেই মাথায় রাখা উচিত। বাজারে থাকা অন্যান্য ব্র্যান্ডের কর্মক্ষমতা কেমন, তা দেখতে আমাদের আরও মোবাইল রিভিউ পড়ুন পাতাটি ঘুরে আসতে পারেন。

ডিসপ্লে কেমন? ছোট স্ক্রিনে বড় অভিজ্ঞতা
আমাদের পর্যবেক্ষণে, স্ক্রিনটি ঘরের ভেতরে দারুণ কাজ করে। তবে কড়া রোদে দাঁড়িয়ে বাইরে মেসেজ পড়তে গেলে বেশ কিছুটা বেগ পেতে হয়। ওয়ানপ্লাস কাগজে-কলমে পিক ব্রাইটনেস অনেক বেশি দাবি করলেও, তীব্র আলোতে স্ক্রিনের রিফ্লেকশন বা প্রতিফলন এড়ানো মুশকিল। অবশ্য ইনডোর বা সাধারণ আলোতে ডিসপ্লের কালার রিপ্রোডাকশন বেশ চমৎকার। রঙগুলো অতিরিক্ত কড়া বা স্যাচুরেটেড দেখায় না, বরং চোখের জন্য বেশ আরামদায়ক ও স্বাভাবিক মনে হয়।
১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেটের কল্যাণে স্ক্রলিংয়ের অভিজ্ঞতা বেশ মসৃণ। ছোট ডিসপ্লে হওয়া সত্ত্বেও ইউটিউব বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এইচডিআর (HDR) কনটেন্ট দেখার সময় সূক্ষ্ম ডিটেইলগুলো বেশ ভালোভাবে চোখে পড়ে। স্ক্রিনের চারপাশের ব্যাজেল বা সীমানাগুলো বেশ সরু হওয়ায় স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও সন্তোষজনক পাওয়া যায়।
Google Pixel 9a-এর মতো ছোট প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এই ডিসপ্লেটি অনেক বেশি দামি অনুভূতি দেয়। ওয়ানপ্লাসের ডিসপ্লে ক্যালিব্রেশন বেশ নিখুঁত। তবে রাতে একদম অন্ধকার ঘরে ফোন ব্যবহারের সময় ব্রাইটনেস যতটা কমানো দরকার, সফটওয়্যার তা করতে পারে না। এখানে আরও কিছুটা অপ্টিমাইজেশনের সুযোগ ছিল বলে মনে হয়েছে।
ক্যামেরা জাদুকর নাকি শুধু মেগাপিক্সেল? ৫০MP ডুয়াল ক্যামেরার ব্যবচ্ছেদ
ছবি তোলার জন্য OnePlus 13s মডেলে দেওয়া হয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের ডুয়াল ক্যামেরা সেটআপ। পর্যাপ্ত আলোতে তোলা ছবিতে ডায়নামিক রেঞ্জ এবং ডিটেইলিং বেশ সন্তোষজনক। বিশেষ করে পোর্ট্রেট মোডে ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্লার বা বোকেহ ইফেক্ট বেশ নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে। মানুষের গায়ের ত্বকের স্বাভাবিক রঙ ধরে রাখার ক্ষেত্রে ওয়ানপ্লাসের নতুন সফটওয়্যার অ্যালগরিদম ভালো কাজ করছে।
তবে এই বাজেটের একটি ফোনে বড় ধাক্কাটি খেতে হবে যখন আপনি গ্রুপ ছবি বা চওড়া কোনো দৃশ্য ফ্রেমে বন্দি করতে যাবেন। কারণ এই ফোনে কোনো ডেডিকেটেড আল্ট্রাওয়াইড লেন্স রাখা হয়নি। ৮০-৯০ হাজার টাকা বাজেটের প্রায় প্রতিটি ফোনেই যেখানে আল্ট্রাওয়াইড লেন্স একটি প্রাথমিক ফিচার, সেখানে OnePlus 13s-এর মতো ফোনে এটি বাদ দেওয়া মেনে নেওয়া কঠিন।
- প্রধান সেন্সরের পারফরম্যান্স: ৫০ মেগাপিক্সেলের মূল লেন্স দিয়ে কম আলোতেও ভালো ছবির মান আশা করা যায়।
- জুমের সীমাবদ্ধতা: কোনো অপটিক্যাল জুম লেন্স নেই। ডিজিটাল জুমের ওপর ভরসা করতে হয়, যা ৩এক্স পার হলেই ছবি ফাটাতে শুরু করে।
- ভিডিও কোয়ালিটি: ওআইএস (OIS) থাকায় ভিডিও বেশ চমৎকার স্থিতিশীল থাকে। তবে ফোন বেশি গরম হলে ভিডিওতে কিছুটা ল্যাগ দেখা দেয়।
ভ্রমণপিপাসু যারা পাহাড় বা সমুদ্রের বিশাল ল্যান্ডস্কেপ ছবি তুলতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য আল্ট্রাওয়াইড লেন্স না থাকাটা বড় হতাশার হবে। তবে সাধারণ সেলফি বা প্রতিদিনের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জন্য মেইন ক্যামেরাটি বেশ ভালো কাজ দেয়।

ব্যাটারি ও চার্জিং: কম্প্যাক্ট ফোনেও কি দিনভর চলে?
যানজট আর লোডশেডিংয়ের এই শহরে ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ নিয়ে দুশ্চিন্তা সবারই থাকে। ছোট আকারের কারণে OnePlus 13s মডেলে বিশাল ব্যাটারি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে মেপে মেপে সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশন এবং স্ন্যাপড্রাগন চিপসেটের পাওয়ার সাশ্রয়ী ক্ষমতার কারণে ফোনটি সকাল ১০টায় ফুল চার্জ নিয়ে বের হলে সাধারণ ব্যবহারে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অনায়াসে চলে যায়।
তবে মোবাইল ডাটা অন রেখে একটানা জিপিএস বা ইউটিউব ব্যবহার করলে বিকেল গড়াতেই চার্জ শেষ হয়ে যাবে। স্বস্তির বিষয় হলো, বক্সে থাকা সুপারভুক (SuperVOOC) ফাস্ট চার্জার দিয়ে মাত্র ৩০ মিনিটে প্রায় ৮০ শতাংশ চার্জ তুলে নেওয়া যায়। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলেও অল্প সময়ের চার্জে ফোন সচল রাখা কঠিন নয়।
আন্তর্জাতিক রিভিউ পোর্টাল GSMArena-এর ব্যাটারি টেস্টেও দেখা গেছে, সমসাময়িক ছোট স্ক্রিনের অন্য ফোনগুলোর তুলনায় এর স্ট্যান্ডবাই ব্যাকআপ মন্দ নয়। তবে যারা সবসময় ঘরের বাইরে থাকেন এবং ব্যাগে পাওয়ার ব্যাংক রাখতে চান না, তাদের জন্য এই ব্যাকআপ হয়তো কিছুটা কম মনে হতে পারে।
সফটওয়্যার ও AI ফিচার: OxygenOS 16 এবং ‘Plus Key’ এর নতুনত্ব
সফটওয়্যারের পরিচ্ছন্নতার জন্য ওয়ানপ্লাসের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। OnePlus 13s ফোনটিতে দেওয়া হয়েছে অ্যান্ড্রয়েড ভিত্তিক নতুন OxygenOS 16। বাড়তি কোনো ব্লোটওয়্যার বা বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন ছাড়াই এটি ব্যবহারকারীকে বেশ চটপটে অভিজ্ঞতা দেয়। এর অ্যানিমেশন ও কাস্টমাইজেশন ফিচারগুলো ব্যবহার করতে বেশ আরামদায়ক।
এই ফোনের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর বডিতে থাকা ‘Plus Key’ নামের ডেডিকেটেড ফিজিক্যাল বাটন। এর মাধ্যমে খুব সহজে মাত্র এক ক্লিকেই প্রিয় যেকোনো অ্যাপ বা এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট চালু করা যায়। যেমন, জ্যামে বসে আইডিয়া এলে এক ক্লিকেই ভয়েস রেকর্ডার চালু করে রাখা সম্ভব। বাটনটি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সাজিয়ে নেওয়া যায়।
পাশাপাশি সিস্টেমে কিছু এআই ফিচারও যুক্ত হয়েছে, যেমন ছবি থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত অংশ মুছে ফেলা বা বড় টেক্সট সংক্ষেপ করে দেওয়া। তবে গুগল বা স্যামসাংয়ের এআই ফিচারের মতো এগুলো এখনো অতটা নিখুঁত হতে পারেনি। এই বিষয়ে আরও বিশদ আলোচনা পেতে আমাদের অ্যাপ রিভিউ পাতাটি ঘুরে দেখতে পারেন।

বাংলাদেশের বাজারে OnePlus 13s: পাওয়া যাবে কি, কেনা কি বুদ্ধিমানের কাজ হবে?
দেশের বাজারে OnePlus 13s এখনো অফিশিয়ালি লঞ্চ করা হয়নি। ফলে এটি কিনতে হলে অনঅফিসিয়াল চ্যানেল বা গ্রে মার্কেটের ওপরই ভরসা করতে হবে। ভারতীয় বাজারে ফোনটির দাম সাধারণত ₹54,999 থেকে ₹59,999 রুপির মধ্যে ওঠানামা করে। তবে আমাদের দেশের ভ্যাট, ট্যাক্স এবং আমদানিকারকদের খরচ যোগ করলে বাংলাদেশে এর দাম আনুমানিক ৮০,০০০ থেকে ৯০,০০০ টাকার কাছাকাছি গিয়ে ঠেকতে পারে।
তবে অনঅফিসিয়াল চ্যানেলে এত টাকা খরচ করে ফোন কেনার আগে কিছু বাস্তব ঝুঁকি বিবেচনা করা দরকার:
- ওয়ারেন্টি পাওয়ার অনিশ্চয়তা: কোনো অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি না থাকায় মাদারবোর্ড বা ডিসপ্লেতে বড় সমস্যা হলে পার্টস পেতে চড়া দাম দিতে হবে।
- ডিসপ্লের গ্রিন লাইন আতঙ্ক: ওয়ানপ্লাসের পুরোনো মডেলগুলোর মতো এই OnePlus 13s-এও যদি গ্রিন লাইন সমস্যা দেখা দেয়, তবে অনঅফিসিয়াল হওয়ায় বিনামূল্যে স্ক্রিন বদলানোর সুবিধা পাবেন না।
- নেটওয়ার্ক নিবন্ধন সমস্যা: বিটিআরসি (BTRC) কড়াকড়ি করলে ভবিষ্যতে অবৈধ বা গ্রে চ্যানেলে আসা হ্যান্ডসেটগুলোর আইএমইআই (IMEI) ব্লক হওয়ার একটা শঙ্কা থেকেই যায়।
ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা থাকলে এবং ছোট আকারের শক্তিশালী একটি হ্যান্ডসেট চাইলে এই ফোনের দিকে যাওয়া যায়। অন্যথায়, সমপরিমাণ টাকা দিয়ে অফিশিয়াল ওয়ারেন্টিসহ কোনো বিশ্বস্ত বিকল্প কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে যেকোনো বড় অঙ্কের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত ভেবেচিন্তে নেওয়া ভালো। দেশের বাজার পরিস্থিতি ও আয়ের সংস্থান নিয়ে সচেতন হতে চাইলে আমাদের চাকরির সার্কুলার পেজটি থেকে ক্যারিয়ার সংক্রান্ত তথ্য দেখে নিতে পারেন।
OnePlus 13s এর সুনির্দিষ্ট তথ্য টেবিল
সহজে বোঝার সুবিধার্থে OnePlus 13s এর মূল স্পেসিফিকেশনগুলো নিচে ছক আকারে তুলে ধরা হলো:
| ফিচার বা উপাদান | সুনির্দিষ্ট বিবরণ |
|---|---|
| চিপসেট | কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট (Snapdragon 8 Elite) |
| প্রধান ক্যামেরা | ৫০MP ডুয়াল ক্যামেরা সিস্টেম (OIS সমর্থিত) |
| সফটওয়্যার | OxygenOS 16 (অ্যান্ড্রয়েড ভিত্তিক) |
| বিশেষ বাটন | ‘Plus Key’ (কাস্টমাইজযোগ্য ফিজিক্যাল বাটন) |
| রিলিজ স্ট্যাটাস | Released (৮ জুলাই ২০২৬ অনুযায়ী ইতিমধ্যে বাজারে লভ্য) |
| ভারতীয় মূল্য | ₹54,999 থেকে ₹59,999 (আনুমানিক) |
শেষ কথা: কম্প্যাক্ট ফ্ল্যাগশিপের নতুন রাজা?
দানবাকৃতির বড় স্ক্রিনের জোয়ারে এক হাতে ব্যবহারের সুবিধাজনক ফোন আনা ওয়ানপ্লাসের বেশ সাহসী একটি পদক্ষেপ। মেটাল ও কাচের চমৎকার বডি এবং স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট চিপসেটের যুগলবন্দি ডিভাইসটিকে প্রিমিয়াম লুক দিয়েছে। আপনি যদি উইকিপিডিয়ায় OnePlus-এর পুরোনো ইতিহাস দেখেন, তবে বুঝবেন তারা সবসময়ই ব্যবহারকারীদের চাহিদাকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
অবশ্য কোনো ডিভাইসই ত্রুটিহীন নয়। আল্ট্রাওয়াইড লেন্স বাদ দেওয়া এবং দীর্ঘ সময় ভারী কাজ করলে গরম হয়ে যাওয়ার সমস্যাটি আপনাকে মানিয়ে নিতে হবে। তার ওপর বাংলাদেশে কোনো অফিশিয়াল বিক্রয়োত্তর সেবা না থাকায় ঝুঁকি থেকেই যায়। স্যামসাং এস২৫ বা শাওমি ১৪-এর মতো প্রতিষ্ঠিত বিকল্পগুলো যেখানে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে, সেখানে OnePlus 13s বাজারে কতটা জায়গা করে নিতে পারবে, সেটাই দেখার বিষয়।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. OnePlus 13s কি বাংলাদেশে অফিশিয়ালি পাওয়া যাচ্ছে?
না, ২০২৬ সালের ৮ জুলাই পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ফোনটি অফিশিয়ালি এ দেশে আসেনি। তবে অনঅফিসিয়াল চ্যানেল বা বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতাদের কাছে এটি পাওয়া যাচ্ছে।
২. এই ফোনে কি মেমোরি কার্ড ব্যবহার করা যায়?
না, OnePlus 13s মডেলে মেমোরি কার্ড ব্যবহারের কোনো স্লট বা সুবিধা নেই। তাই কেনার সময়ই নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী স্টোরেজ অপশনটি বেছে নিন।
৩. ভারী গেমিংয়ের জন্য কি এই ফোনটি কেনা ভালো হবে?
মাঝারি গেমিংয়ের জন্য এটি ঠিক আছে। তবে একটানা ভারী গেম খেললে ছোট আকারের জন্য ফোনটি দ্রুত গরম হয়ে থ্রটলিং করতে শুরু করে। দীর্ঘস্থায়ী হেভি গেমিংয়ের জন্য এটি সেরা পছন্দ নয়।
৪. OnePlus 13s-এর ক্যামেরায় কি কোনো আল্ট্রাওয়াইড লেন্স আছে?
না, ওয়ানপ্লাস তাদের এই মডেলে কোনো ডেডিকেটেড আল্ট্রাওয়াইড সেন্সর রাখেনি। এতে শুধু ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রাইমারি ডুয়াল লেন্স দেওয়া হয়েছে।
৫. ‘Plus Key’-এর কাজ কী?
প্লাস কি মূলত ফোনের পাশে থাকা একটি ফিজিক্যাল বাটন। ব্যবহারকারীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো এটি কাস্টমাইজ করে এক ক্লিকে যেকোনো প্রিয় অ্যাপ বা শর্টকাট ফিচার চালু করতে পারবেন।
📌 আমাদের সিদ্ধান্ত
সহজ ভাষায়, OnePlus 13s হলো এক হাতে ব্যবহারের সুবিধাজনক একটি শক্তিশালী সেট। প্রিমিয়াম ডিজাইন, কাজের প্রসেসর ও চমৎকার মূল লেন্সের দেখা এতে মিলবে। তবে আল্ট্রাওয়াইডের অভাব এবং থার্মাল ম্যানেজমেন্টের দুর্বলতা মাথায় রেখেই পা বাড়ানো উচিত। অনঅফিসিয়াল ফোন কেনার বাড়তি ঝুঁকি তো থাকছেই।
পাঠকদের প্রতি প্রশ্ন: আপনি কি প্রায় ৯০,০০০ টাকা বাজেটে ওয়ারেন্টির ঝুঁকি মাথায় নিয়ে এই ফোনটি কিনতে রাজি আছেন, নাকি স্যামসাং বা শাওমির অফিশিয়াল ফোনের দিকে ঝুঁকে পড়বেন? আপনার মতামত নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানান এবং ভবিষ্যতের সুবিধার জন্য পেজটি বুকমার্ক করে রাখুন!
📌 সর্বশেষ কথা: OnePlus 13s নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম। আপনার মতামত নিচে কমেন্টে জানান, আর নতুন মোবাইল রিভিউ পেতে সাইট বুকমার্ক করুন।