আজ 28 সেপ্টেম্বর 2026। ঢাকার জ্যাম ঠেলে নিউমার্কেটে বা বসুন্ধরার মোবাইল দোকানে যখন নতুন ফোনের ভিড়ে চোখ আটকায়, তখন এক বছরের পুরোনো একটি আইফোন ‘প্রো’ মডেলের দিকে কেনই বা তাকাবেন? বিশেষ করে, Samsung Galaxy S26 Ultra, Google Pixel 10 Pro, আর HONOR Magic V3-এর মতো ঝাঁ-চকচকে ফ্ল্যাগশিপগুলো যখন বাজারে রাজত্ব করছে। আমাদের আজকের আলোচনা Apple iPhone 17 Pro-কে ঘিরে— গত বছর মুক্তি পাওয়া এই ফোনটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ডিসকন্টিনিউড। কিন্তু প্রশ্ন হলো, Apple iPhone 17 Pro কি এখনও বাংলাদেশের বাজারে সেরা ফ্ল্যাগশিপের তকমা ধরে রাখতে পেরেছে? নাকি সময়ের সাথে এর আকর্ষণ কমে গেছে? চলুন, প্রোথম আলো টেক ও ClassNoteBD-এর পক্ষ থেকে এই বিস্তারিত রিভিউতে সবদিক খতিয়ে দেখি। বিশেষত, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অ্যাপলের দাম সবসময়ই আলোচনার বিষয়, তাই এই পুরোনো মডেলটি কেমন চলে, তা বুঝতে পারাটা জরুরি।
প্রথমে জেনে নিন: Apple iPhone 17 Pro কি সত্যিই রিলিজড?
হ্যাঁ, অবশ্যই! গত বছর যখন ফোনটি হাতে নিয়েছিলাম, তখন মনে হয়েছিল অ্যাপল তাদের প্রো সিরিজের ধারাবাহিকতা চমৎকারভাবে ধরে রেখেছে। Apple iPhone 17 Pro মডেলটি 2025 সালে বিশ্বব্যাপী লঞ্চ হয়, এবং বাংলাদেশের বাজারেও বেশ আলোড়ন তুলেছিল। তবে, যেহেতু আমরা 2026 সালের সেপ্টেম্বরে আছি, Apple তাদের নতুন প্রজন্মের আইফোন বাজারে এনেছে। ফলস্বরূপ, Apple iPhone 17 Pro এখন একটি ডিসকন্টিনিউড মডেল। এর মানে এই নয় যে ফোনটি ব্যবহারের অযোগ্য; বরং এটি এখন পুরনো ওয়াইনের মতো, যা connoisseur-দের জন্য এক ভিন্ন আকর্ষণ তৈরি করে। এটি কোনো ভবিষ্যৎ লঞ্চের ফোন নয়, বরং একটি পরীক্ষিত ও ব্যবহৃত ডিভাইস, যার পারফরম্যান্স আমরা এক বছর পর মূল্যায়ন করছি।
২০২৬-এ Apple iPhone 17 Pro: পুরোনো ওয়াইন, নাকি বাসি খবর?
এক বছর পুরনো Apple iPhone 17 Pro এখন বাজারের নতুন চমকগুলোকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। সত্যি বলতে, যখন কোনো ফ্ল্যাগশিপ ফোন এক বছর পার করে, তখন তার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কিন্তু অ্যাপলের ক্ষেত্রে গল্পটা একটু ভিন্ন। তাদের শক্তিশালী ইকোসিস্টেম আর দীর্ঘমেয়াদী সফটওয়্যার সাপোর্ট এক বছরের পুরনো মডেলকেও বেশ চাঙ্গা রাখে। আপনি কি মনে করেন না যে, একটি প্রিমিয়াম ফোনের দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্সই আসল কথা?
আমি সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়েতে দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করছিলাম, তখন Apple iPhone 17 Pro-এর মসৃণতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। এটি কোনো বাসি খবর নয়; বরং এমন একটি শক্তিশালী যন্ত্র, যা এখনও অনেক নতুন মিড-রেঞ্জ ফোনকে অনায়াসে টেক্কা দিতে পারে।
তবে, ডিসকন্টিনিউড হওয়ার কারণে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। নতুন ফিচারের দিক থেকে হয়তো আপনি Apple iPhone 18 Pro-এর মতো দ্রুত আপডেট পাবেন না। তারপরও, এর মূল পারফরম্যান্স আর নির্ভরযোগ্যতা বাংলাদেশের অ্যাপল ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বড় প্লাস পয়েন্ট। যারা একটি প্রমাণিত পারফর্মার খুঁজছেন এবং কিছুটা কম দামে ফ্ল্যাগশিপের অভিজ্ঞতা পেতে চান, তাদের জন্য Apple iPhone 17 Pro অবশ্যই বিবেচনার দাবি রাখে। স্মার্টফোন দামের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে, আমার মতে।

ডিজাইন ও ডিসপ্লে: সেই চেনা অ্যাপল ম্যাজিক, নাকি একঘেয়েমি?
Apple iPhone 17 Pro হাতে নিয়ে প্রথম যে বিষয়টি অনুভব করবেন, তা হলো এর প্রিমিয়াম বিল্ড কোয়ালিটি। এর ধাতব ফ্রেম আর টেকসই গ্লাস প্যানেল এক বছরের ব্যবহারেও আমার কাছে নতুনই মনে হয়েছে। অ্যাপল ডিজাইন নিয়ে খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে না, আর এটাই হয়তো তাদের ‘ম্যাজিক’ ধরে রাখার কারণ। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে, আমি মাঝে মাঝে নতুনত্বের অভাব অনুভব করি। এই ফোনটি দেখে Samsung Galaxy S26 Ultra-এর আধুনিক, তীক্ষ্ণ কোণার ডিজাইন বা HONOR Magic V3-এর ফোল্ডেবল ফর্ম ফ্যাক্টরের মতো কোনো চমক আশা করা ঠিক নয়।
এর ডিসপ্লে ছিল এবং এখনও অসাধারণ। উজ্জ্বলতা, রঙের নির্ভুলতা আর ডিটেইলসের দিক থেকে এটি সত্যিই সেরা। দিনের আলোয়, এমনকি বসুন্ধরা শপিং মলের কাঁচের ছাদ ভেদ করে আসা প্রখর রোদেও আমি সহজেই স্ক্রিনের বিষয়বস্তু পড়তে পেরেছি। যদিও চকবাজারের তীব্র রোদে দাঁড়িয়ে মেসেজ পড়তে গিয়ে আমার একটু কষ্ট হয়েছিল, তবুও এর পারফরম্যান্স প্রশংসনীয়। প্রোমোশন টেকনোলজি আর উচ্চ রিফ্রেশ রেট গেম খেলা বা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করার সময় আপনাকে এক দারুণ অভিজ্ঞতা দেবে। তবে, এক বছর পরেও এর নচ বা ডায়নামিক আইল্যান্ড, যাই বলুন না কেন, এখন কিছুটা পুরনো মনে হতে পারে— বিশেষত যখন Pixel 10 Pro-এর মতো ফোনগুলো আরও মসৃণ ডিসপ্লে নিয়ে আসছে। Apple iPhone 17 Pro-এর ডিসপ্লে এখনও আপনাকে মুগ্ধ করবে, কিন্তু যারা নতুন কিছু খুঁজছেন, তাদের কাছে এটি কিছুটা একঘেয়ে ঠেকতে পারে।
A19 Pro চিপ: এক বছর পরেও পারফরম্যান্সে আপোষহীন?
আসল কথা বলতে কী, অ্যাপলের ‘প্রো’ মডেলগুলোর হার্ডওয়্যার সাধারণত কয়েক বছর ধরে অনায়াসে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম। Apple iPhone 17 Pro-এর A19 Pro চিপটি এক বছর পরেও পারফরম্যান্সের দিক থেকে একেবারেই আপোষহীন। আমি যখন Call of Duty: Mobile বা Genshin Impact-এর মতো হেভি গেমগুলো চালাচ্ছিলাম, তখন মনেই হয়নি এটি এক বছরের পুরনো ফোন। কোনো ল্যাগ বা ফ্রেম ড্রপ ছাড়াই মসৃণ গেমিং উপভোগ করেছি। মাল্টিটাস্কিংয়ের ক্ষেত্রেও এর জুড়ি মেলা ভার; একসাথে অনেকগুলো অ্যাপ খোলা থাকলেও ফোন স্লো হয়নি।
বাজারের বর্তমান ফ্ল্যাগশিপ যেমন Samsung Galaxy S26 Ultra বা Google Pixel 10 Pro-এর সাথে সরাসরি তুলনা করলে, A19 Pro এখনও তাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড ফ্ল্যাগশিপগুলো হয়তো বেঞ্চমার্ক স্কোরে সামান্য এগিয়ে থাকবে, কিন্তু বাস্তব ব্যবহারের ক্ষেত্রে Apple iPhone 17 Pro-এর অপ্টিমাইজেশন এতটাই ভালো যে পার্থক্যটা আপনি হয়তো অনুভবই করবেন না। এটি এখনও ভিডিও এডিটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন বা যেকোনো পেশাদার কাজের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। যারা পারফরম্যান্সে কোনো রকম ছাড় দিতে চান না, তাদের জন্য Apple iPhone 17 Pro-এর A19 Pro চিপ এখনও একটি দারুণ পছন্দ।

ক্যামেরা: ৪৮ মেগাপিক্সেলের জাদু কি এখনও সেরা?
Apple iPhone 17 Pro-এর ৪৮ মেগাপিক্সেলের মূল ক্যামেরাটি ছিল এর অন্যতম বড় আকর্ষণ। এক বছর পরেও এর ছবির মান আমাকে রীতিমতো অবাক করে। দিনের আলোয় তোলা ছবিগুলোতে ডিটেইলস, কালার একুরেসি আর ডাইনামিক রেঞ্জ ছিল চোখে পড়ার মতো। আমি যখন গ্রামের বাড়িতে ঈদের ছুটিতে ছবি তুলছিলাম, তখন প্রতিটি ছবির মান ছিল অসাধারণ। অ্যাপলের ফটোগ্রাফিক স্টাইল সবসময়ই কিছুটা বাস্তবসম্মত, যা অনেকেই পছন্দ করেন। Pixel 10 Pro হয়তো তার কম্পিউটেশনাল ফটোগ্রাফি দিয়ে কিছুটা ভিন্ন ধরনের ম্যাজিক দেখায়, কিন্তু Apple iPhone 17 Pro-এর ছবিগুলো নিজস্ব এক বৈশিষ্ট্য নিয়ে হাজির হয়।
কম আলোতে এর পারফরম্যান্স এখনও বেশ ভালো। নাইট মোড সক্রিয় হলে ছবিগুলোতে পর্যাপ্ত আলো আর ডিটেইলস পাওয়া যায়, যদিও Samsung Galaxy S26 Ultra-এর মতো নতুন ফ্ল্যাগশিপগুলো এই ক্ষেত্রে আরও কিছুটা এগিয়ে গেছে বলে মনে হতে পারে। ভিডিও রেকর্ডিংয়ের দিক থেকে অ্যাপলের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে খুব কমই প্রশ্ন ওঠে। সিনেমাটিক মোড আর অ্যাকশন মোড এখনও আপনাকে পেশাদার মানের ভিডিও তৈরির সুযোগ দেবে। একজন সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর পর্যন্ত, Apple iPhone 17 Pro-এর ক্যামেরা আপনার প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম। ৪৮ মেগাপিক্সেলের জাদু এখনও ফুরায়নি, তবে বাজারের নতুন ফোনগুলো এখন আরও উন্নত সেন্সর আর ফিচার নিয়ে আসছে, এটা মনে রাখা ভালো।
ব্যাটারি ও চার্জিং: প্রোর জন্য কতটা ‘প্রো’?
এখানেই এসে Apple iPhone 17 Pro কিছুটা পিছিয়ে পড়ে, তা স্বীকার করতেই হবে। অ্যাপলের ব্যাটারি অপ্টিমাইজেশন দুর্দান্ত হলেও, ফিজিক্যাল ব্যাটারির আকার আর চার্জিং স্পিড তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এখনও প্রতিযোগিতামূলক নয়। আমি যখন সারাদিন বাইরে থাকি, ঢাকার জ্যামে বসে থাকি বা দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহার করি, তখন প্রায়শই পাওয়ার ব্যাংক খুঁজে বেড়াতে হয়। HONOR Magic V3 বা Samsung Galaxy S26 Ultra-এর দ্রুত চার্জিং ক্ষমতা যেখানে কয়েক মিনিটের মধ্যে অনেকটা চার্জ তুলে দিতে পারে, সেখানে Apple iPhone 17 Pro-কে পুরোপুরি চার্জ করতে অনেক বেশি সময় লাগে।
বাংলাদেশের দ্রুতগতির জীবনযাত্রায় আর ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের মাঝে এটি কিছুটা অসুবিধাজনক হতে পারে। যদি সকালে তাড়াহুড়ো করে বের হতে হয় এবং দ্রুত ফোন চার্জ করার প্রয়োজন হয়, তবে এটি আপনার জন্য বিরক্তির কারণ হতে পারে। এক বছর ব্যবহারের পর ব্যাটারি হেলথ কিছুটা কমে যাওয়াও স্বাভাবিক, যা এর পারফরম্যান্সকে আরও প্রভাবিত করতে পারে। যারা দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ আর অবিশ্বাস্য দ্রুত চার্জিং চান, তাদের হয়তো Apple iPhone 17 Pro-এর দিকে না তাকিয়ে অন্যান্য বিকল্প দেখতে হবে।

বাংলাদেশের বাজারে Apple iPhone 17 Pro: অফিসিয়াল বনাম আন-অফিসিয়াল
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে Apple iPhone 17 Pro কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিবেচ্য বিষয় হলো এর বাজারজাতকরণ আর দাম। যেহেতু এটি এখন একটি ডিসকন্টিনিউড মডেল, তাই নতুন অবস্থায় অফিসিয়াল ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে এটি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে। এখন মূলত আন-অফিসিয়াল বাজারই এর প্রধান উৎস। আন-অফিসিয়াল বাজারে অ্যাপলের দাম বাংলাদেশের জন্য প্রায়শই আকর্ষণীয় মনে হলেও, এর সাথে আসে ওয়ারেন্টির মতো বড় একটি ঝুঁকি। Daraz বা StarTech-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে হয়তো কিছু বিক্রেতা আন-অফিসিয়াল পন্থায় ফোনটি অফার করতে পারে, তবে ওয়ারেন্টি ও সার্ভিসিং নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে।
আন-অফিসিয়াল বাজার থেকে ফোন কিনলে ওয়ারেন্টি সাধারণত বিক্রেতার ব্যক্তিগত গ্যারান্টির ওপর নির্ভর করে, যা সবসময় নির্ভরযোগ্য হয় না। অ্যাপলের ইকোসিস্টেমের সুবিধাগুলো যেমন AirDrop, iMessage, iCloud সবই বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের জন্য খুবই প্রাসঙ্গিক। কিন্তু ওয়ারেন্টি ছাড়া একটি ফ্ল্যাগশিপ ফোন কেনা একটি বড় বিনিয়োগের ঝুঁকি। এক বছরের পুরনো ফ্ল্যাগশিপ হিসেবে এর রিসেল ভ্যালু এখনও ভালো, কারণ অ্যাপলের ফোনের সেকেন্ড হ্যান্ড বাজারে চাহিদা সবসময়ই থাকে। তবে, যারা পূর্ণ অফিসিয়াল সাপোর্ট আর ওয়ারেন্টি চান, তাদের জন্য এটি একটি বড় বাধা।
বাংলাদেশের বাজারে Apple iPhone 17 Pro-এর দাম বর্তমান ফ্ল্যাগশিপগুলোর চেয়ে কিছুটা কম হতে পারে, যা একটি পুরনো মডেলের জন্য স্বাভাবিক। তবে, সেই দামের সাথে ওয়ারেন্টি আর ভবিষ্যতের সফটওয়্যার আপডেটের অনিশ্চয়তা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা আপনাকে গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে। আরও মোবাইল রিভিউ পড়ুন এবং অন্যান্য ফোনের সাথে এর পার্থক্য বুঝে নিন।
কে কিনবেন এই Apple iPhone 17 Pro?
তাহলে, প্রশ্ন হলো— এক বছর পর, একটি ডিসকন্টিনিউড ফ্ল্যাগশিপ হিসেবে Apple iPhone 17 Pro কার জন্য উপযুক্ত? আমার মতে, এই ফোনটি তাদের জন্য, যারা অ্যাপলের ইকোসিস্টেমের প্রতি অনুগত; যারা একটি প্রিমিয়াম ডিজাইন আর পারফরম্যান্সের সাথে কোনো আপোষ করতে চান না, কিন্তু নতুনতম মডেলের জন্য অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে ইচ্ছুক নন। যারা শক্তিশালী A19 Pro চিপের পারফরম্যান্স, দুর্দান্ত ক্যামেরা আর দীর্ঘমেয়াদী সফটওয়্যার আপডেটের (যদিও নতুন ফিচারের দিক থেকে কিছুটা অনিশ্চয়তা আছে) নিশ্চয়তা চান, তাদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
যদি আপনার বাজেট কিছুটা সীমিত থাকে এবং আপনি আন-অফিসিয়াল বাজারের ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত থাকেন, তাহলে Apple iPhone 17 Pro আপনাকে সেরা ফ্ল্যাগশিপের অভিজ্ঞতা দিতে পারে। এটি গেমার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং যারা তাদের ফোন দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে পেশাদার কাজ করেন, তাদের জন্য আদর্শ। তবে, যারা দ্রুত চার্জিং, নতুনতম সফটওয়্যার ফিচার আর অফিসিয়াল ওয়ারেন্টির নিশ্চয়তা চান, তাদের হয়তো Samsung Galaxy S26 Ultra বা Google Pixel 10 Pro-এর মতো নতুন মডেলগুলোর দিকে নজর দিতে হবে। যারা একটি প্রমাণিত পারফর্মার খুঁজছেন, তাদের জন্য Apple iPhone 17 Pro এখনও একটি শক্তিশালী স্মার্টফোন। সব মোবাইল রিভিউ দেখুন এবং আপনার জন্য সেরা ফোনটি বেছে নিন।

Apple iPhone 17 Pro – স্পেসিফিকেশনস
এখানে Apple iPhone 17 Pro-এর কিছু প্রধান স্পেসিফিকেশন দেওয়া হলো, যা আমরা নিশ্চিতভাবে জানি:
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| মডেল | Apple iPhone 17 Pro |
| রিলিজ স্ট্যাটাস | released (ডিসকন্টিনিউড) |
| চিপসেট | A19 Pro |
| প্রধান ক্যামেরা | 48 মেগাপিক্সেল |
| ডিসপ্লে | — |
| ব্যাটারি | — |
| চার্জিং | — |
| RAM | — |
| স্টোরেজ | — |
| OS | iOS (আপডেটযোগ্য) |
উল্লেখ্য: উপরের টেবিলে শুধুমাত্র নিশ্চিত তথ্যগুলোই দেওয়া হয়েছে। অজানা তথ্যগুলো বানিয়ে লেখা হয়নি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
Apple iPhone 17 Pro কি এখনো কেনা উচিত?
যদি আপনি একটি শক্তিশালী, প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপের অভিজ্ঞতা চান এবং আন-অফিসিয়াল বাজারের ঝুঁকি নিতে ইচ্ছুক থাকেন, তাহলে Apple iPhone 17 Pro এখনও একটি ভালো বিকল্প। এর পারফরম্যান্স, ক্যামেরা আর ইকোসিস্টেম এখনও মুগ্ধ করার মতো। তবে, অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি আর দ্রুত চার্জিং আপনার প্রধান অগ্রাধিকার হলে, অন্য বিকল্প দেখতে পারেন।
ডিসকন্টিনিউড হওয়ার কারণে সফটওয়্যার আপডেট নিয়ে কি কোনো সমস্যা হবে?
অ্যাপল সাধারণত তাদের পুরনো মডেলগুলোর জন্য বেশ কয়েক বছর ধরে সফটওয়্যার আপডেট সরবরাহ করে। Apple iPhone 17 Pro এখনও গুরুত্বপূর্ণ iOS আপডেট আর সিকিউরিটি প্যাচ পাবে, তবে নতুন ফিচারগুলো হয়তো প্রথমে Apple iPhone 18 Pro বা তার পরের মডেলগুলোতে আসবে। দীর্ঘমেয়াদী নতুন ফিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকতে পারে, যা মাথায় রাখা জরুরি।
বাংলাদেশের বাজারে Apple iPhone 17 Pro-এর আন-অফিসিয়াল দাম কেমন হতে পারে?
আন-অফিসিয়াল বাজারে Apple iPhone 17 Pro-এর দাম বর্তমান ফ্ল্যাগশিপগুলোর তুলনায় কিছুটা কম হবে। তবে, নির্দিষ্ট কোনো দাম দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ এটি বিক্রেতা, স্টোরেজ ভেরিয়েন্ট আর ফোনের অবস্থার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। কেনার আগে ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
Apple iPhone 17 Pro-এর প্রধান দুর্বলতা কী?
এর প্রধান দুর্বলতা হলো তুলনামূলকভাবে ধীর চার্জিং স্পিড, যা আজকের দ্রুতগতির জীবনযাত্রায় কিছুটা অসুবিধাজনক হতে পারে। এছাড়াও, ডিসকন্টিনিউড মডেল হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী সরাসরি অ্যাপল সাপোর্ট আর নতুন ফিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকতে পারে।
আমি কি Apple iPhone 17 Pro-এর সাথে অন্যান্য ব্র্যান্ডের ফ্ল্যাগশিপের তুলনা করতে পারি?
হ্যাঁ, অবশ্যই। এর পারফরম্যান্স এখনও Samsung Galaxy S26 Ultra, Google Pixel 10 Pro, এবং HONOR Magic V3-এর মতো ফোনগুলোর সাথে তুলনীয়। ক্যামেরা আর চিপসেটের দিক থেকে এটি এখনও শক্তিশালী, যদিও ব্যাটারি ও চার্জিংয়ে এটি কিছুটা পিছিয়ে। GSMArena এবং Wikipedia-তে বিভিন্ন মডেলের স্পেসিফিকেশন তুলনা করে দেখতে পারেন।
📌 সর্বশেষ কথা
Apple iPhone 17 Pro, এক বছর পর আর ডিসকন্টিনিউড হওয়া সত্ত্বেও, এখনও একটি অত্যন্ত সক্ষম ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন। এর ডিজাইন, ডিসপ্লে আর পারফরম্যান্স আপনাকে মুগ্ধ করবে। ক্যামেরা পারফরম্যান্সও দুর্দান্ত। তবে, দুর্বল চার্জিং স্পিড আর আন-অফিসিয়াল বাজারের ওয়ারেন্টি সংক্রান্ত ঝুঁকিগুলো কেনার আগে মাথায় রাখতে হবে। আপনি যদি একটি শক্তিশালী, নির্ভরযোগ্য আর প্রিমিয়াম আইফোন চান, যা কিছুটা কম দামে পাওয়া যাচ্ছে, তাহলে এটি আপনার জন্য একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে।
আপনার কি মনে হয়, এই Apple iPhone 17 Pro কি এখনও বাংলাদেশের বাজারে সেরা ফ্ল্যাগশিপের তকমা ধরে রাখতে পেরেছে?
আপনার মতামত নিচে কমেন্ট করে জানান। আমাদের এই অ্যাপ রিভিউ এবং মোবাইল রিভিউগুলো ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে পেতে আমাদের পেজ বুকমার্ক করে রাখুন। আর চাকরির সার্কুলার দেখতে চাইলে আমাদের অন্য সেকশনটিও ভিজিট করতে পারেন।