প্রথম দেখাতেই একটা খটকা লাগতে পারে—এত বড় স্ক্রিনের ফোন অথচ হাতের মুঠোয় কেমন চমৎকারভাবে এঁটে গেল! ঢাকার জ্যামে আটকে থেকে যখন আমরা নতুন ফোনের স্বপ্ন বুনি, তখন মাথায় ঘোরে বাজেট আর ফিচারের হিসাব। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসে আপনি যদি প্রিমিয়াম ডিভাইসের খোঁজ করেন, তবে বাজারে honor দাম বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে আলোচনা করা দরকার। আমাদের এই মোবাইল রিভিউ 2026-এ আমরা খুঁটিয়ে দেখব Honor বাংলাদেশ-এর ফ্যানদের পছন্দের এই ফ্ল্যাগশিপ ফোনটি বর্তমানের অস্থিতিশীল স্মার্টফোন দাম 2026-এর বাজারে ঠিক কতটা যৌক্তিক হতে পেরেছে।
স্যামসাং আর অ্যাপলের পুরনো রাজত্বে ভাগ বসানো সহজ নয়। অনর অবশ্য তাদের এই ফ্ল্যাগশিপ দিয়ে সেই কঠিন কাজটিই করতে চাইছে। সত্যি বলতে, শুধু গালভরা বিজ্ঞাপন দেখে তো আর লাখ টাকা খরচ করা যায় না। তাই ঢাকার জ্যামের ধুলোবালি থেকে শুরু করে লোডশেডিংয়ের গুমোট রাত—সব পরিস্থিতিতে Honor Magic 7 Pro ঠিক কেমন পারফর্ম করে, তা আমাদের দীর্ঘ পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
প্রথম দেখায়: Honor Magic 7 Pro এর ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি
পেছনের ম্যাট ফিনিশটা বেশ আরামদায়ক। ফোনটি হাতে নিলে মেটাল ফ্রেম আর মজবুত গ্লাসের প্রিমিয়াম অনুভূতিটা স্পষ্ট টের পাওয়া যায়। ক্যামেরা মডিউলের বড়সড় আকৃতিটা অনেকের কাছে দৃষ্টিকটু লাগতে পারে, তবে এটি দূর থেকেও চেনা যায়। একটা বাস্তব কথা মাথায় রাখা ভালো—ঢাকার ধুলোবালির মধ্যে ব্যাক কভার ছাড়া Honor Magic 7 Pro ব্যবহার করলে ক্যামেরার চারপাশে ময়লা জমার ঝুঁকি থাকবেই।

ভারসাম্য বা ওজন বণ্টনের দিক থেকে অনর দারুণ কাজ করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে এক হাতে স্ক্রোল করলেও কবজিতে বাড়তি চাপ পড়ে না। তবে টেবিলের ওপর ফোনটি ফ্ল্যাট রেখে টাইপ করতে গেলে ক্যামেরা বাম্পের কারণে এটি কিছুটা দুলবে। গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা বা আইফোন ১৭ প্রো-এর ফ্ল্যাট কোণার চেয়ে Honor Magic 7 Pro এর সামান্য বাঁকানো এজগুলো হাতে ধরার জন্য বেশি আরামদায়ক মনে হয়েছে।
পকেটে চাবি বা খুচরা পয়সার ঘষা লাগলে ফোনের স্ক্রিনে দাগ পড়বে কি না, এই চিন্তা সবারই থাকে। এই ফোনে ব্যবহৃত গ্লাসটি বেশ শক্তপোক্ত। রিকশায় বা জনাকীর্ণ বাসে যাতায়াতের সময় টুকটাক ঘষা লাগলেও আমাদের পরীক্ষায় এর ব্যাক প্যানেলে কোনো স্ক্র্যাচ পড়েনি। তারপরও লাখ টাকার ফোনকে সুরক্ষিত রাখতে বাক্সে দেওয়া কভারটি ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
ডিসপ্লে: Honor Magic 7 Pro এর চোখ ধাঁধানো উজ্জ্বলতা ও মসৃণতা
দুপুরের কড়া রোদে দাঁড়িয়ে স্ক্রিন দেখতে গিয়ে যারা চোখ কুঁচকে তাকান, তাদের জন্য এই ডিসপ্লে স্বস্তির কারণ হবে। ৬.৮ ইঞ্চির এলটিপিও ওলেড ডিসপ্লেতে ৫০০০ নিটস পিক ব্রাইটনেসের সুবিধা পাওয়া যায়। চকবাজারের তীব্র রোদে দাঁড়িয়েও মেইল পড়তে বা ভিডিও দেখতে কোনো সমস্যা হয় না। ক্লাস নোট বিডি বা প্রথম আলোর দীর্ঘ প্রতিবেদন পড়ার সময় চোখের ওপর বাড়তি কোনো ধকল যায় না।

ডিসপ্লের ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট স্ক্রোলিংয়ের অভিজ্ঞতাকে দারুণ মসৃণ করে তোলে। রাতের বেলা অন্ধকার ঘরে ফোন ব্যবহারের অভ্যাস যাদের আছে, তাদের জন্য রয়েছে ৪৩২০ হার্জের পিডব্লিউএম ডিমিং প্রযুক্তি। এটি চোখের ক্লান্তি অনেকটাই কমিয়ে আনে। তবে একটু নেতিবাচক দিকও আছে; স্ক্রিনের বাঁকানো ধারের কারণে মাঝে মাঝে অনিচ্ছাকৃত বা ভুল স্পর্শ (Accidental Touch) ঘটে যায়, যা ব্যবহারের সময় কিছুটা বিরক্তি তৈরি করতে পারে।
রঙের নিখুঁত ভারসাম্য এই স্ক্রিনের সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট। নেটফ্লিক্স বা ইউটিউবে হাই-ডেফিনিশন সিনেমা দেখার সময় এর কালার কন্ট্রাস্ট চোখ জুড়িয়ে দেয়। কালো রঙের গভীরতা এখানে একদম নিখুঁত দেখায়। আপনি যদি ফোনে প্রচুর ওয়েব সিরিজ বা ভিডিও কনটেন্ট দেখতে পছন্দ করেন, তবে এর ডিসপ্লে আপনাকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট রাখবে।
পারফরম্যান্স: Honor Magic 7 Pro এর স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট-এর আসল ক্ষমতা
স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট চিপসেটের পারফরম্যান্স নিয়ে খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন পড়ে না, এটি এমনিতেই দারুণ শক্তিশালী। ঢাকার ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তপ্ত দুপুরে যখন বাইরে হাঁসফাঁস অবস্থা, তখনও ব্যাকগ্রাউন্ডে এক ডজন অ্যাপ চালু রেখে Honor Magic 7 Pro কোনো রকম থ্রটলিং বা ল্যাগ ছাড়াই চলেছে। ভারী অ্যাপ ওপেন করা কিংবা দ্রুত মাল্টিটাস্কিংয়ের মতো কাজগুলো অনায়াসেই সামলে নেয় এই প্রসেসর।

র্যাম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। সকালে ব্যবহার করা কোনো অ্যাপে যদি বিকেলে ফিরে আসেন, তবে Honor Magic 7 Pro সেটি মেমরিতে ধরে রাখতে পারে। তবে একটা বাস্তব সমস্যা এড়িয়ে যাওয়া যায় না। একটানা ফোর-কে ভিডিও রেকর্ড করলে বা অতিরিক্ত গ্রাফিক্সে গেম খেললে ফোনের পেছনের অংশটি বেশ গরম হয়ে ওঠে। লোডশেডিংয়ের সময় ঘরে বাতাস না থাকলে এই উত্তাপ সহজেই টের পাওয়া যায়।
ভারী ফাইল প্রসেসিংয়ের কাজেও এই চিপসেটের সুবিধা পাওয়া যায়। যারা ফোনে ভিডিও এডিটিং করতে চান, তাদের জন্য রেন্ডারিং স্পিড বেশ দ্রুত হবে। ক্যাপকাট বা প্রিমিয়ার রাশের মতো অ্যাপে বড় প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করলেও Honor Magic 7 Pro-তে ফ্রেম ড্রপ চোখে পড়ে না। যারা অন্তত তিন-চার বছর নিশ্চিন্তে ব্যবহারের জন্য ডিভাইস খুঁজছেন, তারা এই পারফরম্যান্সে ভরসা রাখতে পারেন。
ক্যামেরা: Honor Magic 7 Pro এর ২০০ মেগাপিক্সেল পেরিস্কোপের জাদু
অনরের মূল আকর্ষণ বরাবরই থাকে ক্যামেরায়। Honor Magic 7 Pro-এর পেরিস্কোপ লেন্সে এবার ২০০ মেগাপিক্সেলের একটি বড় সেন্সর বসানো হয়েছে। ৩এক্স বা ৫এক্স জুমে লালবাগ কেল্লার মিনারের কারুকাজ কিংবা বুড়িগঙ্গার ওপারে থাকা নৌকার ছবি তুললে তার শার্পনেস এবং ডিটেইল দারুণভাবে ফুটে ওঠে। দূরবর্তী ছবি তোলার ক্ষেত্রে জুম কোয়ালিটি সত্যিই চমৎকার।
পোর্ট্রেট মোডে ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্লার বা বোকেহ ইফেক্টটি বেশ স্বাভাবিক দেখায়। তবে ঘরের ভেতরের আলোয় বা রাতে ছবি তোলার সময় প্রসেসিং অ্যালগরিদম ছবিকে কিছুটা অতিরিক্ত ফর্সা এবং কৃত্রিমভাবে শার্প করে ফেলে। মানুষের ত্বকের স্বাভাবিক রঙ ধরে রাখার ক্ষেত্রে আইফোন ১৭ প্রো কিছুটা এগিয়ে থাকবে। তবে যারা এডিটিং ছাড়া সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করতে পছন্দ করেন, তাদের Honor Magic 7 Pro হতাশ করবে না।
ভিডিওর স্থায়িত্ব ধরে রাখার জন্য ওআইএস এবং ইআইএস বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। রিকশায় চড়ে বা হাঁটার সময় Honor Magic 7 Pro দিয়ে ভিডিও করলেও ফুটেজ খুব একটা কাঁপে না। রাতের বেলা রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের তীব্র আলো বা ছায়া নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাও বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। যারা প্রফেশনাল কাজের বাইরে সাধারণ ভ্লগিং করতে চান, তারা অনায়াসে এটি দিয়ে ভালো মানের ভিডিও করতে পারবেন।
ব্যাটারি ও চার্জিং: Honor Magic 7 Pro কি সারাদিনের সঙ্গী?
সারাদিন বাইরে থাকলে চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তা এই ফোনে একেবারেই থাকবে না। Honor Magic 7 Pro-তে ৫৮৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। ঢাকার জ্যামে জিপিএস অন রেখে গান শোনা এবং নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রোল করার পরও দিনশেষে প্রায় ৩০% চার্জ অবশিষ্ট পাওয়া যায়। পরিমিত ব্যবহারে এটি থেকে অনায়াসে দেড় থেকে দুই দিনের ব্যাকআপ পাওয়া সম্ভব।
১০০ ওয়াটের ওয়্যারড চার্জিংয়ের মাধ্যমে মাত্র আধা ঘণ্টার কাছাকাছি সময়ে ফোনটি সম্পূর্ণ চার্জ হয়ে যায়। পাশাপাশি ৮০ ওয়াটের ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের সুবিধাও রয়েছে। তবে কেনার আগে একটা বিষয় নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন—বক্সের ভেতরে চার্জিং অ্যাডাপ্টারটি থাকছে কি না। গলোবাল ট্রেন্ড মেনে অনেক বিক্রেতাই বক্সে চার্জার দেয় না, যা এই বাজেটের ফোনের ক্ষেত্রে বেশ বিরক্তিকর একটি বিষয়।
সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি প্রযুক্তি ব্যবহারের বড় সুবিধা হলো এর সহনশীলতা। সাধারণ লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির চেয়ে এটি অতিরিক্ত গরমেও চার্জ ধরে রাখতে পারে। ঢাকার তীব্র গ্রীষ্মে যখন অন্যান্য ফোনের ব্যাকআপ দ্রুত কমতে থাকে, তখন Honor Magic 7 Pro নিজের চার্জের স্থায়িত্ব ধরে রাখে। চার্জ ব্যাকআপের ক্ষেত্রে এই ফোনটি আপনাকে বেশ স্বস্তি দেবে।
সফ্টওয়্যার ও আপডেটের ক্ষেত্রে Honor Magic 7 Pro এর দীর্ঘ পথচলা
অ্যান্ড্রয়েড ১৫ ভিত্তিক অনরের নিজস্ব ম্যাজিক ওএস ৯ ইন্টারফেস নিয়ে মিশ্র অভিজ্ঞতা হতে পারে। আইফোনের ডায়নামিক আইল্যান্ডের মতো ‘ম্যাজিক ক্যাপসুল’ ফিচারটি Honor Magic 7 Pro-তে বেশ কাজের, যা টুকটাক নোটিফিকেশন দেখতে সাহায্য করে। অনর বৈশ্বিক সংস্করণের জন্য ৭ বছরের দীর্ঘ সফটওয়্যার আপডেটের প্রতিশ্রুতি দিলেও আমাদের দেশে এর বাস্তবায়ন কতটা মসৃণ হবে, তা দেখার বিষয়।
বাংলাদেশে যারা আনঅফিশিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে Honor Magic 7 Pro কিনবেন, তাদের ক্ষেত্রে সময়মতো ওটিএ আপডেট পাওয়া কিছুটা ঝামেলার হতে পারে। অনেক সময় রিজিওনাল ভ্যারিয়েন্টের কারণে আপডেট আসতে বেশ দেরি হয়। আপনি যদি সফটওয়্যার সাপোর্ট নিয়ে ভীষণ খুঁতখুঁতে হন, তবে কেনার আগে এই ঝুঁকিটি মাথায় রাখা ভালো। বিভিন্ন ফোনের সফটওয়্যার এবং ওএস অভিজ্ঞতার তুলনামূলক চিত্র দেখতে আমাদের সব মোবাইল রিভিউ দেখুন ক্যাটাগরি ঘুরে আসতে পারেন।
ছবি থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত বস্তু মুছে ফেলা কিংবা তাৎক্ষণিক অনুবাদ করার মতো প্রয়োজনীয় এআই ফিচারগুলো এখানে ভালোভাবে কাজ করে। তবে অনরের ওএসে বেশ কিছু অপ্রয়োজনীয় থার্ড-পার্টি ব্লটওয়্যার বা প্রি-ইনস্টলড অ্যাপ থাকে, যা লাখ টাকার প্রিমিয়াম ফোনের সফটওয়্যার অভিজ্ঞতায় কিছুটা দাগ ফেলে। অবশ্য ব্যবহারকারীরা চাইলে এই বাড়তি অ্যাপগুলোর বেশিরভাগই নিজে থেকে আনইনস্টল করে নিতে পারেন।
গেমারদের জন্য Honor Magic 7 Pro এর কার্যকারিতা কেমন?
ভারী গেমারদের চাহিদার কথা মাথায় রাখলে এই ফোনের জিপিইউ এবং কুলিং সিস্টেম আপনাকে আশ্বস্ত করবে। পাবজি বা জেনশিন ইমপ্যাক্টের মতো রিসোর্স-হাংরি গেমগুলো Honor Magic 7 Pro-তে সর্বোচ্চ সেটিংসেও স্থিতিশীল ৯০ এফপিএস-এ চলে। দীর্ঘ সময় গেমিং করার পরও উল্লেখযোগ্য কোনো ফ্রেম ড্রপ বা ল্যাগ আমাদের চোখে পড়েনি।

টাচ রেসপন্স অত্যন্ত ক্ষুরধার হওয়ায় অ্যাকশন গেমগুলোতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। তবে গেমারদের জন্য একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো মেমরি কার্ড ব্যবহারের সুযোগ না থাকা। ২৫৬ বা ৫১২ জিবি স্টোরেজ পূর্ণ হয়ে গেলে নতুন করে মেমরি বাড়ানোর কোনো উপায় নেই। তাই আপনি যদি বড় সাইজের একাধিক গেম ফোনে রাখতে চান, তবে কেনার সময়েই বেশি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্ট বেছে নেওয়া দরকার।
গেমিংয়ের সময় অডিও কোয়ালিটি কেমন পাওয়া যায়? এর ডুয়াল স্টিরিও স্পিকার বেশ জোরালো এবং চারপাশের সাউন্ডের গভীরতা ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলে। পাবজির মতো গেমে হেডফোন ছাড়া শুধু স্পিকারের শব্দ শুনেই শত্রুর অবস্থান কিছুটা আঁচ করা সম্ভব। যারা হেডফোন ছাড়া গেম খেলতে বা গান শুনতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই স্পিকার বেশ সহায়ক হবে।
দাম বনাম মূল্য: বাংলাদেশে আপনার জন্য কি Honor Magic 7 Pro সঠিক?
সবশেষে লাখ টাকার বাজেটের সার্থকতা নিয়ে কথা বলা যাক। বাংলাদেশে Honor Magic 7 Pro এর দাম এখন প্রায় ৯৪,০০০ থেকে ১,০১,৯৯৯ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। ঢাকার হ্যালো ইলেকট্রনিক্সের মতো খুচরা দোকানে ফোনটি সহজেই খুঁজে পাওয়া যাবে। এই বাজেটে এর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাজারে রয়েছে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা কিংবা শাওমি ১৫ আল্ট্রার মতো শক্তিশালী সব ডিভাইস।
অফিশিয়াল ব্র্যান্ড ওয়ারেন্টির অনুপস্থিতি এই ফোনের সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গা। এত টাকা খরচ করে কোনো ঝুঁকি নিতে না চাইলে আনঅফিশিয়াল ফোন কেনার ক্ষেত্রে অনেকেই দ্বিধায় পড়তে পারেন। তবে যারা চমৎকার ক্যামেরা জুম আর দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন, তাদের জন্য এই বাজেট মোটেও বিফলে যাবে না। বাজারের অন্যান্য ফোনের তুলনামূলক তথ্য জানতে আমাদের আরও মোবাইল রিভিউ পড়ুন পাতাটি ভিজিট করতে পারেন। এছাড়া বিভিন্ন কাজের প্রয়োজনীয় অ্যাপের উপযোগিতা নিয়ে বিশদ জানতে দেখুন আমাদের অ্যাপ রিভিউ সেকশন।
আমাদের পর্যবেক্ষণে, Honor Magic 7 Pro একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রিমিয়াম ডিভাইস। এর শক্তিশালী প্রসেসর, প্রাণবন্ত স্ক্রিন আর দুর্দান্ত জুম ক্যামেরা আপনাকে হতাশ করবে না। তবে মেমরি কার্ড স্লট না থাকা এবং বাংলাদেশে আপডেট পাওয়ার অনিশ্চয়তার মতো দুটি বড় সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
Honor Magic 7 Pro এর স্পেসিফিকেশন টেবিল
| ফিচার | বিস্তারিত তথ্য (Honor Magic 7 Pro) |
|---|---|
| ডিসপ্লে | ৬.৮ ইঞ্চি, LTPO OLED, ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট |
| প্রসেসর | Snapdragon 8 Elite (3 nm) |
| পেছনের ক্যামেরা | ৫০ MP (প্রধান) + ২০০ MP (পেরিস্কোপ টেলিপোটো, ৩এক্স জুম) + ৫০ MP (আল্ট্রাওয়াইড) |
| সামনের ক্যামেরা | ৫০ MP + TOF 3D (ডেপথ সেন্সর) |
| ব্যাটারি | ৫৮৫০ mAh, সিলিকন-কার্বন প্রযুক্তি |
| চার্জিং স্পিড | ১০০ ওয়াট ওয়্যারড, ৮০ ওয়াট ওয়্যারলেস |
| মেমরি কার্ড স্লট | নেই |
| অপারেটিং সিস্টেম | Android 15 (MagicOS 9) |
টেবিলের স্পেসিফিকেশনগুলো দেখলে এর হার্ডওয়্যার সক্ষমতার একটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। ফোনটির গ্লোবাল রেটিং ও ব্যবহারকারীদের মতামত জানতে সরাসরি GSMArena এবং অনরের অফিশিয়াল আপডেট দেখতে Honor-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ঘুরে আসতে পারেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. বাংলাদেশে Honor Magic 7 Pro এর দাম কত?
উত্তর: দেশের বাজারে বর্তমানে এর আনঅফিশিয়াল দাম প্রায় ৯৪,০০০ থেকে ১,০১,৯৯৯ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। যমুনা ফিউচার পার্ক কিংবা হ্যালো ইলেকট্রনিক্সের মতো ঢাকার বিভিন্ন দোকানে এটি পাওয়া যাচ্ছে।
২. Honor Magic 7 Pro-তে কি মেমরি কার্ড ব্যবহার করা যায়?
উত্তর: না, এই ফোনে আলাদা কোনো মেমরি কার্ড ব্যবহার করার সুযোগ রাখা হয়নি। তাই কেনার আগেই নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্ট বেছে নিতে হবে।
৩. Honor Magic 7 Pro এর ব্যাটারি ব্যাকআপ কেমন?
উত্তর: এতে ৫৮৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি রয়েছে। স্বাভাবিক ব্যবহারে এটি অনায়াসে দুই দিন এবং একটানা ভারী ব্যবহারে এক দিনের বেশি ব্যাকআপ দেবে।
৪. বাংলাদেশে Honor Magic 7 Pro এর জন্য কি অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি পাওয়া যাবে?
উত্তর: বর্তমানে দেশের বাজারে আমদানিকৃত বেশিরভাগ ফোনই আনঅফিশিয়াল চ্যানেলের। ফলে অফিসিয়াল ব্র্যান্ড ওয়ারেন্টি পাওয়ার সুযোগ কম, তবে বিক্রেতা বা শপের নিজস্ব সার্ভিস ওয়ারেন্টি পেতে পারেন।
৫. Honor Magic 7 Pro এর ২০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা কি সত্যিই কার্যকরী?
উত্তর: হ্যাঁ, এর ২০০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ লেন্সটি বেশ শক্তিশালী। বিশেষ করে ৩এক্স ও ৫এক্স জুমে তোলা ছবির ডিটেইল ও শার্পনেস অন্য যেকোনো সমসাময়িক ফ্ল্যাগশিপকে অনায়াসে টেক্কা দিতে পারে।
📌 সর্বশেষ কথা
২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে Honor Magic 7 Pro প্রমাণ করেছে যে তারা অনায়াসে বাজারের সেরা ফোনগুলোর সাথে লড়াই করতে প্রস্তুত। আপনি যদি দুর্দান্ত ক্যামেরা জুম আর চমৎকার ব্যাটারি লাইফকে বেশি গুরুত্ব দেন, তবে এই ডিভাইসটি আপনার তালিকায় ওপরের দিকেই থাকবে। তবে আনঅফিশিয়াল ফোনের ক্ষেত্রে অফিশিয়াল ওয়ারেন্টির অভাব এবং মেমরি কার্ড ব্যবহার করতে না পারার সীমাবদ্ধতাগুলো কেনার আগে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।
৯৪,০০০ টাকা বাজেটে Honor Magic 7 Pro কেনা আপনার কাছে কতটা যৌক্তিক মনে হয়? নাকি আপনি স্যামসাং বা আইফোনের দিকেই ঝুঁকবেন? নিচের কমেন্ট বক্সে আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত জানান! লেখাটি ভালো লাগলে বুকমার্ক করে রাখতে পারেন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না।